হৃদয়ের পরিবর্তন

মুহাম্মদ ওবাইদুল্যাহ ফারুক


রোজা শুধু ক্ষুধা, তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়। এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা, তাকওয়া অর্জন করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের এক পূর্ণাঙ্গ ইবাদত। নামাজ সেই ইবাদতের মেরুদণ্ড। তাই রোজা রেখে যদি নামাজ ত্যাগ করা হয়, তবে রোজার আসল উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হয়।


আল্লাহ তাআলা বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।'

রোজার মূল লক্ষ্য ক্ষুধা সহ্য করা নয়, বরং অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করা। তাকওয়া মানে হলো আল্লাহকে ভয় করে গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং তাঁর আদেশ মানা। নামাজ হচ্ছে তাকওয়ার সবচেয়ে বড় অনুশীলন। যে ব্যক্তি রোজা রাখে কিন্তু নামাজ পড়ে না, সে রোজার উদ্দেশ্যকেই দুর্বল করে দেয়। কারণ আল্লাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আদেশগুলোর একটি সে উপেক্ষা করছে।

নামাজের বিষয়ে যখন আসে,তখন একটি বিষয় মাথায় চলে আসে।আর সেটি হলো 'নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে।' রোজা মানুষকে সংযম শেখায়, কিন্তু নামাজ সেই সংযমকে টিকিয়ে রাখে। দিনে পাঁচবার নামাজ পড়লে মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করে, নিজের ভুলের কথা ভাবে, তওবা করে। ফলে চরিত্র গঠন হয়। নামাজ ছাড়া রোজা যেন এমন এক ঘর, যার ভিত আছে কিন্তু স্তম্ভ নেই, স্থায়িত্ব কমে যায়। 

ছোট বেলায় আরবী একটি গল্পে পড়েছিলাম - নামাজ যদি শীর্ষ ইবাদত নাও হতো,তবুও উত্তম ইবাদত হিসেবে পরিগণিত হতো।

রোজা রেখে যদি নামাজ ত্যাগ করা হয়, তবে ঈমানের মূল ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে - 'অনেক রোজাদার আছে, যারা রোজা থেকে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া কিছুই পায় না।'


যদি রোজার সঙ্গে গুনাহ ত্যাগ, নামাজ আদায়, চরিত্র সংশোধন, এসব না থাকে, তবে রোজা শুধু উপোসে পরিণত হয়। আল্লাহ শুধু না খাওয়াকে চান না; তিনি চান হৃদয়ের পরিবর্তন। নামাজ সেই পরিবর্তনের প্রধান মাধ্যম।

রোজা রেখে যদি নামাজ না পড়া হয়, তবে রোজার আসল চেতনা ও উদ্দেশ্য অনেকটাই অপূর্ণ থেকে যায়। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে হলে রোজা ও নামাজ উভয়কেই আন্তরিকতার সঙ্গে আদায় করতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

ইবাদতের বসন্তকাল || মুহাম্মদ ওবাইদুল্যাহ্ ফারুক

নীল পাঞ্জাবী